রমজান, কিছু মানুষের রোজা না থাকার কিছু অজুহাত

লোকটা হিন্দু, ভালো গিটার বাজায়। জেলা পর্যায়ের একটা ব্যান্ডের মালিক। তার ব্যান্ডের সদস্যদের গানগুলোই ইউটিউবে আপলোড দিয়ে পুরো ব্যান্ডটাই এখন বেশ জনপ্রিয়। তাদের একটা ভালো দিক হচ্ছে আপলোডের দিক থেকে ধারাবাহিকতা। ইউটিউব ছাড়াও আশে পাশের জেলাগুলোতে ভালো শো পাচ্ছে।
রমজানের কয়েকদিন আগে ঘোষনা দিয়েছেন পবিত্র রমজানের পবিত্র ও মুসলমানদের প্রতি সম্মান রেখে তিনি রমজান মাসে কোন শো করবে না এবং ইউটিউবে কোন ভিডিও আপলোড করবেন না।

কর্মসূত্রে একটা হিন্দু ছেলের সাথে পাশাপাশি ডেস্কে বসে অনেকদিন কাজ করছিলাম। রমজান মাসে তাকে একবারও পানি খেতে দেখিনি। সারাবছর ডেস্কে বসে দুপুরের খাবার খেলেও রমজান মাসে রেস্টুরেন্টে গিয়ে খায় বাসা থেকে নিয়ে আসা খাবার।এবছর রমজান মাসে কোন হিন্দু ছেলেকে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য সিগারেট খেতে দেখিনি। কিন্তু মুসলমান পরিবারের ছেলে তো ভালো কথা, মেয়েদেরও দেখা যায়। আর হ্যাঁ, কথা কিন্তু হিন্দু মুসলমান না, কথা হচ্ছে ভদ্রতা প্রদর্শণ। সব হিন্দুরাই যে এই ভদ্রতা দেখায় তা কিন্তু না, অন্যধর্মের প্রতি ভদ্রতা তো দূরের কথা, গালীর কমতি রাখে না এমনও আছে।
.
: বাইরে যাবি?
- বাইরে রোদ, আম্মু যেতে দিবে না।
এটায় বুঝায়, তার আম্মু তাকে প্রচন্ড ভালোবাসে, তাই তাকে রোদে যেতে দিবে না। আর এই ভালোবাসাবাসির একটা নতুন ট্রেন্ড হচ্ছে-
"আমার আম্মু আমাকে রোজা থাকতে দেয় না"
"রোজা থাকলে ক্লান্ত হয়ে যাই তো, তাই আম্মু রোজা থাকতে নিষেধ করে"
.
দুইটা লাইন টানবো। লাইন টানার আগে বলতে হচ্ছে, রমজান মাসে কোন খাবারের দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ভয় হয়, এই বুঝি টেনে ভিতরে নিয়ে গেলো। এই মাসে তাদের ডাকাডাকিও অনেক মধুর হয়ে যাবে। মনে হচ্ছে ভিতরেই সব শান্তি।
বাসে পাশের সিটে বসা ছেলেটা যখন পানি খাচ্ছিলো তখন থাপ্পড় মারতে গিয়েও থেমে যেতে হয়েছে, কেননা সামনের সিটের ৩ জন মিলে চিপস ভাগাভাগি করে খাচ্ছিলো।
.
"রোজা থাকলে রাতে পড়তে বসতে পারি না"
আমার এসএসসির সময় রোজা হয়েছিলো টেস্ট পরীক্ষার অল্প কয়েকদিন আগে। আমি তো রোজা কিংবা পরীক্ষা কোনটাই বাদ দেইনি। রমজান মাসে দিনে পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়, পড়াটা সময় করে দিনে বেশ খানিকটা এগিয়ে নিলেই হয়। আর রোজা থেকে টানা ৯০ মিনিটের ফুটবল ম্যাচও খেলছি।
.
"আমার তা গ্যাস্টিক, আমি রোজা থাকতে পারি না।"
৩/৪ দিন আগে পরিচিত একজন (রোজাদার ভাব নেয়) কে দেখলাম রেস্টুরেন্ট থেকে মুখ মুছতে মুছতে বের হচ্ছে। জিজ্ঞাস করলাম, রোজা থাকেন না?
আমার আলসার আছে, তাই থাকতে পারি না।
বললাম- যদি সত্যি আলসারের রোগী হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার সুস্থতা কামনা করি। আর যদি রোজা ফাঁকি দেয়ার জন্য বলেন, তাহলে আপনার আলসার কামনা করি।
এখন দেখি তার চোখে মুখে তাকানো যায় না। মাথা নিচু করে বললো- কাল থেকে থাকবো।
.
একবার এক হাস্যরসাত্মক আলোচনায় মসজিদের ইমাম বলেছিলো-
বলেন তো গ্যাস্ট্রিকের জন্ম কবে থেকে?
সবাই চুপ ছিলো।
তিনি আবার বলেন- যেদিন থেকে আমরা বুঝতে শিখলাম কিছু একটা বলে রোজা ফাঁকি দিতে হবে, সেদিন থেকেই গ্যাস্ট্রিকের জন্ম।
ইমাম সাহেব কিন্তু ভুল বলেননি। ঘটনা কিন্তু হচ্ছে। গ্যাস্ট্রিকের কথা বলে রোজা না থাকা বেশিরভাগই সিগারেট খান। গ্যাস্ট্রিকের অন্যতম কারন হচ্ছে কিন্তু সিগারেট। তারা গ্যাস্ট্রিকের অজুহাতে রোজা বাদ দিয়ে সারাদিন কিন্তু সিগারেট নিয়েই পরে থাকেন। তবে এটা সত্য, শুধু সিগারেটের মায়ায় বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে রোজা থাকেন না, এমন মানুষ কিন্তু অনেক।