ভবঘুরে ।। পর্ব-৫ ।।


ইদানিং কেমন জানি হয়ে গেছি।
ইদানিং বললে ভুল হবে। গত /২টা দিন ধরে কেমন জানি হয়ে গেছি।
.
খুব কাছের একজন গত কয়েকদিনে ফোনে কেমন আছে জিজ্ঞাস না করেই বলে- সানগ্লাস কিনছো?
না, এখনো কেনা হয়নি। তোমার সাথে দেখা হলে তোমাকে সাথে নিয়ে কিনবো বলে ভুলে যাওয়ার অভিনয় করছি।
.
ইদানিং নিজেকে চিনতে বেশ কষ্ট হয়। একটা সময় রাত জেগে, লাইট অফ করে দিয়ে ল্যাপটপের কি-বোর্ড হাতরে কিছু একটা লেখা ছিলো নেশার মত।
অথচ আজ ল্যাপটপটা হাতে নিলাম এই প্রায় / দিনে পরে। আজ ব্যতিক্রম। আমার সাথে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম কিছু হচ্ছে। এই সময় ল্যাপটপে বসলে রুমের লাইট বন্ধ থাকতো। কিন্তু আজ জ্বলছে। কানে হেডফোন লাগানো থাকে, যদিও অপরপ্রান্ত কোন ডিভাইসে লাগানো থাকে না। কিন্তু আজ সেটা হচ্ছে না। আজ অনেককিছুই উল্টা হচ্ছে। ফোনে ২২% চার্জার কানেক্ট দেই, এই মাত্র দেখলাম চার্জ ১৪%, চার্জের অবস্থাও উল্টা।
.
এই পর্যন্ত লেখা অবস্থায় একজন ইনবক্সে একটা ভিডিও ক্লিপ দেয়। খুব সুন্দর সাউন্ড আর ভিডিওগ্রাফি। সত্যি অবাক হওয়ার মত অবস্থা। খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যায়ে একটা ভৌতিক অবস্থা দেখা যায় আর সেই সাথে ভৌতিক শব্দ (এই ভৌতিক ভিডিও দেয়ার জন্য আপনাকে আনফ্রেন্ড করা হলো)
রুমে একা, ফ্লোরে বসে আছি। লাইট জ্বলছে। ফ্যান বন্ধ, গায়ে জ্বর আর সেই সাথে ঠান্ডার সমস্যা। ফ্যান ছাড়াই স্বাভাবিক আছি। পাশের বিল্ডিং এর ছাদে কনস্ট্রাকশনের কাজ চলছে, ফ্লোর ঝাড়ু দেয়ার শব্দ। কোথায় যেন বিড়াল ডাকছে। মহল্লার সিকিউরিটি গার্ডের বাঁশির শব্দ। বেশ কিছুদিন আগে একবার রাতে বের হইছিলাম। সিকিউরিটি গার্ডের সাথে বেশ জমিয়ে আড্ডা দিলাম। ফেরার সময় তার থেকে একটা বাঁশি নিয়ে আসছিলাম। বাঁশিটা এখনো আমার টেবিলের উপর পরে আছে। / দিন আগে একবার ফুঁ দিছিলাম, পাশের রুমের এক বড় ভাইয়ের ধমকে আর কোন দিন ফুঁ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিছি। আজ কেন জানি ফুঁ দিতে ইচ্ছা করছে।
.
রাতে খুব একটা বের হই না। কয়েকদিন আগে বের হইছিলাম। রাত ১১ টায় বের হয়ে টায় ফিরছিলাম, কারণ টা ছিলো তরমুজ কেনা। কিন্তু কিনতে পারিনি। আজও কেন জানি বের হতে ইচ্ছা করে।
সিকিউরিটি গার্ডের সাথে / মিনিট গল্প করবো। বলবো আপনি থাকেন, আমি একটু সামনে থেকে হেঁটে আসছি।
আর পেছনে তাকাবো না, হাঁটতে হাঁটতে সোজা কমলাপুর। এই সময়ে কমলাপুরের চায়ের দোকানগুলো খোলা থাকে। কিন্তু স্টেশনের চা খেয়ে মজা নাই। চা তো মজা আরামবাগ ডালাস মোড়ের। অনেক ধরনের চা বানায় ওরা। একটা সময় নিয়মিত যেতাম, রাত করেই বেশি যাওয়া হতো। দোকান বন্ধ করবে করবে অবস্থা, আমাকে দেখে আবার চুলা বাড়িয়ে দিবে। আর ওখানে চা খাওয়ার আরেকটা কারণ আছে। ওখানে দাড়িয়ে একটু ডানে ঘুরে তাকালেই তলা বাড়ির দোতলার বেলকুনিটাতে চোখ রাখা যায়।
.
কয়েকদিন আগে চায়ের দোকানের টুলটায় বসে ওভাবেই বেলকুনিতে চোখ রাখতে ছিলাম। নীল শাড়ি গায়ে জড়িয়ে একজন প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে আছে। কোলের উপরে বই রাখা, হাতে রেড-ব্লাক প্রিন্টের মগ। মগে হয় তো চা, না হলে কফি। কিংবা দুধ হরলিক্স জাতীয় কিছুও হতে পারে।
চোখে পলক দিয়ে তাকাতেই দেখি বেলকুনি ফাঁকা। ফাঁকা বলতে আসলে ফাঁকা না, নীল শাড়ির সেই নীলা নেই। দুটি বাচ্চা দুষ্টামী করছে। তাদের কারো গায়েই নীল রংএর কিছু নেই। একজনের গায়ে কার্টুন আঁকা টি-শার্ট, আরেকজন সাদা স্যান্ডুগেঞ্জি গায়ে। মনে হচ্ছে এরা অনেকটা সময় ধরে বেলকুনিতে।
তাহলে নীল শাড়িতে কাকে দেখলাম?
হুম, এটা দেখার ভুল। এটাকে দৃষ্টিভ্রম বলা যেতে পারে।
.
এই বাড়ি থেকে নীলারা চলে যাওয়ার পর থেকেই এমন দৃষ্টিভ্রম হয়। রাতের সময়টাতে এমন দৃষ্টিভ্রম নিয়মিত হয়ে দাড়িয়েছে