নবাব সলিমুল্লাহ'র ফিরে আসা



দীর্ঘদিন আগে সন্ন্যাসী হতে সবকিছুর মায়া ছেড়ে চলে যাওয়া কি যে চিন্তা করে আবার ফিরে এলো বাংলায়।
গুলিস্থান থেকে ঘোড়ার গাড়ী না পেয়ে রিক্সা নিয়ে তার বাবা আহসানউল্লার নামে নির্মিত আহসান মঞ্জিল গেল। গেটের দারোয়ান তাকে চিনতে না পারায় ১০ টাকার টিকেট ২০ টাকায় কিনে নিজের পূর্ব বাড়িতে প্রবেশ করতে হলো। দীর্ঘ দিন দূরদেশে থাকা বিভিন্ন কথা বাড়িটার বর্তমান মহা-ব্যবস্থাপক কে বলার পর নবাব কে পাগল নামে আখ্যায়িত করা হলো।
বাড়ি ভিতরে তার ব্যবহৃত সবকিছুই খুব যত্নে রাখা আছে। হাজারো দর্শনার্থী
দেখতে আসছে। নবাবের ছবির সামনে দাড়িয়ে এক যুবক তার সদ্য বিবাহিত স্ত্রীর কাছে নবাবের কীর্তি বিশ্লেষন করছে। শুধু ফিরে আসা নবাবকেই কেউ চিনতে পারছে না।
নবাব আশা ছেড়ে দিয়ে ফিরে যাওয়ার জন্য পা বাড়িয়ে থেমে গেল। ব্যাগ থেকে ডিএসএলআর ক্যামেরাটা বের করে তার এবং স্ত্রীর ব্যবহৃত কিছু আসবাবপত্রে ছবি স্মৃতি হিসেবে সাথে রাখার জন্য ছবি তুলতে লাগলো। নবাব অনুভব করলো কেউ একজন তার গলা চেপে ধরে দরজার দিকে ধাক্কা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
আজ বিকেলে এক বন্ধুর সাথে আহসান মঞ্জিলে ঘুরতে গেলে এই চিন্তাগুলো মাথায় আসে। সত্যি এখানে পাহারাদার-দারোয়ানদের ভাবসাব দেখলে মনে হয় প্রত্যেকটা একএকটা নবাবজাদা। পুনর্জীবন পেয়ে কোন নবাব যদি ফিরে আসে তাহলো তাকেও হয়তো ১০ টাকার টিকেট ২০ টাকা দিয়ে কিনে ভিতরে প্রবেশ করতে হবে।