“গুরুর মর্যাদা” প্রবাদটা সোজা যাদুঘরে চলে গেছে।

পরিচিত এক ভদ্রলোক কম্পিউটার কিনে ফোনে জানালো, আমি যেন প্রতিদিন সন্ধ্যায় তার বাসায় গিয়ে একটু শিখিয়ে দেই (টাকার বিনিময়ে)। একদিন যাওয়ার পরই না করে দিলাম। কারন হিসাবে বললাম-
আপনি যদি মনে করতেন- আপনি জানেন না বলে ফয়সাল আপনাকে শেখাতে আসছে, তাহলে প্রতিদিনই আপনার বাসায় আসতাম।
কিন্তু আপনি তো মনে করছেন- ফয়সালকে কিছু টাকা দিয়ে ভাড়া করছি, বাসায় এসে শেখাতে।
.
“গুরুর মর্যাদা” প্রবাদটা সোজা যাদুঘরে চলে গেছে। ক্লাশ সিক্সে পড়াকালীন টু-তে পড়া একটা বাচ্চাকে পড়াতাম (নিজেও বাচ্চা ছিলাম)। মাসে শুক্রবার সহ ৩০ দিন পড়াতাম, ১০০ টাকা দিতো। কিন্তু সবচেয়ে বেশি দিতো
সম্মানটা, পুরো পরিবারের সবাই মনে করতো স্যার পড়াতে আসছে। ওই বাচ্চার বাবাও আমাকে দেখলে সিগারেট ফেলে দিতেন, এটা সম্মান।
..
এখন যারা বাসায় গিয়ে টিউশনি করান, তারা হয়তো আমার চেয়ে একটু ভালোই বলতে পারবেন, তারা কতটা সম্মান পাচ্ছেন।
.
এখন স্কুলে কোন বাচ্চা পাশ না করলে বাবা-মা সোজা হেডমাষ্টারের রুমে গিয়ে ঝাড়ি- এই বছর এত এত টাকা দিলাম, আমার ছেলে/মেয়ে পাশ করলো না কেন??
.
আমাদের সময় বাবা হেডমাষ্টারকে বলেন দিতেন, মাইরের উপর রাখবেন, ওর সম্পূর্ন দায়িত্ব আপনাকে দিয়ে দিলাম। তবু যদি একটু মানুষ হয়। পরীক্ষায় রেজাল্ট ভালো না করলে বাবা-মা' রা শিক্ষকদের সামনে যেতে লজ্জা পেতেন।
.
এখনকার বাবা-মায়ের ধারনাই বদলে গেছে, শিক্ষককে আমার বাচ্চাকে পড়ানোর জন্য ভাড়া করে রাখছি।
“গুরুর মর্যাদা” প্রবাদটা সোজা যাদুঘরে চলে গেছে।