কেন বারবার তনু'রা ধর্ষিত হয়

সামিয়ার সাথে সম্পর্কটা ৩ বছরের বেশি দিন ধরে। গত ৩ বছরে ১৫ মিনিটের সুখের জন্য একসাথে কম মিলিত হয়নি। প্রতিটা জেলা শহরেই রাত কাটিয়েছি একত্রে। বিয়ে না করা শারীরিক সম্পর্কে আমাদের কারোরই কোন আপত্তি ছিলো না।
কোন এক সকালে সামিয়া ফোনে জানালো- প্রেগন্যান্ট। ডাক্তারের কাছে গিয়ে কিছু করা যাবে না, তাহলে আর কোনদিন মা হতে পারবে না।

এখন উপায় কি?
(১) আমি সামিয়াকে বিয়ে করবো
(২) সামিয়ার পরিবার অন্য একটা ছেলেকে ধোঁকা
দিয়ে তার সাথে সামিয়াকে বিয়ে দিবে
(৩) বাচ্চাটা পৃথিবীতে আসবে, বাবার পরিচয় দেয়ার মত কেউ থাকবে না।
(৪) বাচ্চাটাকে ফুটপাতে রেখে আসা হবে, মা-বাবার পরিচয় বাচ্চাটা জানবে না।

এ উপায়গুলো এখন প্রচলিত নিয়ম (সামাজিক) হয়ে দাড়িয়েছে। আচ্ছা এই বাচ্চা বড় হয়ে কি হবে? আপনার আমার ১৫ মিনিটের সুখের ফল যে বাচ্চা, সে বাচ্চাও বিয়ে না করে ১৫ মিনিটের সুখ খুজবে। আর এদের নোংরামির বলি হবে তনু'র মত মেয়েরা।

আমি একটা বারের জন্যও তনু হত্যার বিচার চাই না। তনুকে হত্যা করার হয়েছে ধর্ষনের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য। যার বিচার আমি কখনোই চাই না।

ধর্ষনটা কত নিরাপত্তা বেষ্টিত এলাকায় করা হয়েছিলো, তা নতুন করে বলার দরকার নাই।
যদি তনুদের পরিবারকে সামাজিক ভাবে নিচু করার জন্য হতো তবে তনুকে ধর্ষন করেই খ্যান্ত হতো, খুন করা হতো না।
শত্রুতামূলক কোন কিছু থাকলে তনুকে বাচিয়ে রাখা হতো, যাতে তনু'র পরিবারকে মাথা নিচু করে চলতে হয়। কিন্তু তা তো না।

তনু ধর্ষনটা শুধুমাত্র ১৫ মিনিটের সুখের জন্যই ছিলো। হায়রে মানবতা, দেশের অলিতে-গলিতে প্রস্টিটিউট তথা মাগী পল্লীর অভাব নাই। সেখানে ১৫ মিনিটের সুখ নেয়ার সুযোগ থাকতে কেন বারবার তনুদেরকেই টার্গেট করা হয়?
কিন্তু টার্গেটটা করে করা? তাদের জন্মটাও কি ১৫ মিনিটের সুখের মাঝে কিঞ্চিত ভুলের ফসল?