"শিশুশ্রম বন্ধ" যেন এক আবালময় শ্লোগান


শিশুশ্রম বন্ধ করার পরিকল্পনার মত 

অন্যকোন হাই-লেভেলের বলদামি আছে বলে মনে হয় না।
.
অসহায় মজনু, আগে রিক্সা চালাতো, দূর্ঘটনার পর এখন বাসায় পরে থাকতে হয়। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর আর বিয়ে করেনি। বড় দুই ছেলে বিয়ে করে আলাদা থাকছে। ছোট ছেলে সাজু প্রাইমারির গন্ডি শেষ করলো কিছু দিন আগে। বস্তির একটা ভাঙ্গা ঘরে মজনু মিয়া সাজুকে নিয়ে থাকে। টাকার অভাবে
থেমে গেছে সাজুর পড়ালেখা, মজনু মিয়ার চিকিৎসা। ঠিকমত খাবারও জোগার হয় না।
.
মজনু মিয়ার শেষ সম্বল সাজু। একটা কাজের জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। আইনের মাধ্যমে শিশুশ্রম নিষিদ্ধ করায় সাজুকে কেউ কাজে নেয় না। খিদের জ্বালায় সাজু বেছে পকেটমারি অথবা ফুটপাতের দোকানের ক্যাশবাক্স থেকে টাকা চুরি।
..
থামেন থামেন, গল্প বলতে আসিনি। এটা এক সাজু... এমন সাজুর অভাব নাই। আইন করে শিশুশ্রম বন্ধ করলে সাজুর মত ছেলেরা কি করবে? আমরা শিশুশ্রম বন্ধের জন্য ব্যানার পোষ্টার নিয়ে সভা সমাবেশ করতে পারি। কিন্তু পারিনা ওদের জন্য কিছু করতে, যা করলে কোন শিশুকে শ্রমে যেতে হবে না।
জানি, আমার কথাগুলো অনেকেই খারাপ ভাবে নিবে। কেননা, সাজু আর আমার মাঝে কিছুটা মিল আছে। ব্যবধান- সাজু খাবারের জন্য, আমি হাত খরচের জন্য। আমি যখন ঢাকায় প্রথম চাকুরীর খোজ করি তখন সার্টিফেকেট অনুযায়ী আমার বয়স ১৬ বছর ৭ মাস। কয়েক জায়গায় চুড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে বয়সের জন্য আমাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। যদিও ঐ চাকুরী করার যথেষ্ট দক্ষতা আমার ছিল।
এভাবে যদি চাকুরির বয়স নির্ধারন করে দেওয়া হয় তবে সাজুর মত কিংবা আমার মত ছেলেদের চলা কতটা কষ্টকর হবে তা একবার ভেবে দেখবেন ।
.
শিশুশ্রম বন্ধ করাকে আমি বলদামি বলবোই।