ছুটির দিনে ঘুরে আসুন চাঁদপুর

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চরের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। মেঘনা নদীর তীরে এ জেলা অবস্থিত। চাঁদপুরের মানুষ আতিথেয়তার জন্য বিখ্যাত।

(সংগৃহিত ছবি)
চাঁদপুর জেলা নদীর জেলা হিসেবে পরিচিত।এখানে জালের মতো বিস্তৃত আছে অনেক নদী।এখানে ৮ টি নদী আছে যা অন্য যে কোনো জেলা থেকে অনেক বেশি। নদীগুলো হচ্ছে: মেঘনা, পদ্মা, ডাকাতিয়া, গোমতী, ধনাগোদা, মতলব, উধামধি, চারাতভোগ। 
ইলিশ ভাজা খেতে পারেন চাঁদপুর লঞ্চ ঘাট এর কোন লোকাল রেস্টুরেন্ট
অথবা চাঁদপুর কালীবাড়ি মোড় এর রেস্টুরেন্টগুলোতে।





ঢাকা থেকে চাঁদপুর যেতে ঘন্টা লাগে, কম/বেশি লাগতে পারে বিলাশ বহুল লঞ্চ জার্নির পাশাপাশি আছে গাড়ী পথেরও ব্যবস্থা। সকাল ৭ থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত এবং বিকেল ৩ টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঢাকা সদরঘাট থেকে চাঁদপুরে যাওয়ার লঞ্চ পাবেন। আছে ফেমেলি কেবিন, ডাবল কেবিন, সিংঙ্গেল কেবিন। সেই সাথে ২৫০ টাকার এসির চেয়ার, ১৫০ টাকার নন এসি চেয়ারের ব্যবস্থা আছে। আপনি যদি ডেকের যাত্রী হতে চান তবে খরচ হবে মাত্র ১০০ টাকা।



দর্শনীয় স্থানঃ চাঁদপুরে সবচেয়ে আকর্ষনিয় হচ্ছে মোহনা (পদ্মা, মেঘনা, ডাকাতিয়া)এই মোহনা আপনি দেখতে পাবেন দেশি পর্যটকদের পাশাপাশি বিদেশী পর্যকটদেরও আনাগোনা। দুপুরের পর থেকেই নদী তীরে লোকসমাগম বাড়তে থাকে। জেলে নৌকা দেখার পাশাপাশি ঢাকার
সাথে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগদের মাধ্যম লঞ্চগুলোও আপনি এই মোহনায় দাড়িয়ে দেখতে পাবেন। দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর মত সূর্যাস্তও দেখতে পাবেন।তীব্র স্রোরে কারণে মোহনার কাছাকাছা নদীভাঙ্গন একটা সময়খুব সাধারণ ঘটনা ছিলো। সরকারী ব্যবস্থাপনায় ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্লক ফেলে যতটুকু রক্ষা করা গেছে তার অংশবিশেষকেই চাঁদপুর মোহনা বা মোলহেড বলা ডাকা হয়। স্থানীয়রা একে সাবের গাজীর আস্তানা বলেও ডেকে থাকে।


মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে রণাঙ্গনে শহীদ হওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে মোলহেডের প্রবেশ মুখে নির্মাণ করা হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ “রক্তধারা”। 


পরিবহন ব্যবস্থা-
চাঁদপুরে পরিবহনের জন্য পাবেন রিক্সা, অটো রিক্সা, সিএনজি। শহরের ভিতরে ঢাকার মত লোকাল বাস পাবেন না। তবে সিএনজিগুলোকে আপনার বাসের বিকল্প মনে হবে। ভাড়া খুব একটা বেশি না। ঢাকার বাস ভাড়ার মতই চাঁদপুরের সিএনসি ভাড়া।
তবে আমার মত ভীতু প্রকৃতির হলে সিএনজি তে না উঠে রিক্সায় উঠায় ভালো। আমি চাঁদপুর লঞ্চ ঢাকা থেকে বাবুর হাট পর্যন্ত যেতে ৩ বার সিএনজি থামিয়েছিলাম। কারন একটাই স্পিড বেশি। আর তো বারবার লেন পরিবর্তনের সমস্যার পাশাপাশি ওভারটেক করার প্রবনত খুব বেশিই ড্রাইভারদের মাঝে।



চাঁদপুরে এসে যদি কেউ কালীবাড়ি মোড়ের ইসমাইলের দোকানের ফুসকা না খায়, তবে তার চাঁদপুর আসাটাই বৃথা।
বন্ধু রাকিব আমাকে ২০ টাকার সিএনজি ভাড়া (প্রতিজন) দিয়ে কালীবাড়ি মোড়ে নিয়ে যায়। উদ্দেশ্য একটাই, ইসলামাইলের দোকানের ফুসকা। ২০ টাকায় ৯ টা ফুসকা দেয়া হয়। যা ঢাকার ১০০ টাকার ফুসকার চেয়েও ভালো মানের। তবে ইসমাইলের দোকানের ফুসকা খেতে আপনাকে অবশ্যই লাইনে দাড়াতে হবে।


আমি কোন ভ্রমন বিলাশি না কিংবা ভ্রমন গাইড লেখার মত কেউ একজনও না। তবে ঘুরতে পছন্দ করি। অভিজ্ঞতা শেয়ার করতেও মন্দ লাগে না।

শেষ করবো কয়েকটা ছবি দিয়ে-


(সংগৃহিত ছবি)

ইলিশ চত্ত্বর









মোহনায় আমার ক'জন









বন্ধু রাকিবের সাথে মোহনায়....
একদমই মন খারাপ না, হয়তো কোন কারনে চিন্তিত ছিলাম।